ঢাকা ০৮:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঋণখেলাপি বিতর্কে উত্তপ্ত সংসদ

ঢাকার পত্রিকা ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৮:০৬:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
  • / 10

বাজেট আলোচনায় ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ এবং সংসদ সদস্যদের ঋণ পরিস্থিতি নিয়ে স্বতন্ত্র সদস্য রুমিন ফারহানার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদে বিতর্ক হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের এই সদস্যের বক্তব্যকে ‘মানহানিকর’ হিসেবে বর্ণনা করে তা জাতীয় সংসদের কার্যবিবরণীতে বাদ দেওয়ার দাবি জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও সরকারি দলের সদস্য ফজলুল হক মিলন।

অধিবেশনের সভাপতি ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্ত না দিয়ে বলেন, বক্তব্যটি পর্যালোচনা করে পরে স্পিকারের আসন থেকে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

বৃহস্পতিবার নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বতন্ত্র সদস্য রুমিন ব্যাংক খাতের মন্দ ঋণ, পুনঃতফসিল করা ঋণ এবং সংসদ সদস্যদের কাছে ব্যাংকের পাওনার প্রসঙ্গ তোলেন।

তার বক্তব্যের পর পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য ফজলুল হক মিলন আপত্তি জানান।

পরে এ বিষয়ে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির নাহিদ ইসলাম।

মন্দ ঋণ নিয়ে কী বলেছেন রুমিন?

বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদ সদস্য রুমিন বলেন, ব্যাংক খাত থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনার মধ্যেই ব্যাংকগুলো তারল্য সংকটে রয়েছে।

তিনি বলেন, “ঋণখেলাপিদের এই সংসদে দাঁড়িয়ে বলতে হচ্ছে, বাংলাদেশের মোট মন্দ ঋণের পরিমাণ ৬ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা।

“এর সঙ্গে যদি আপনি অবলোপন, পুনঃতফসিল করা ও মামলার কারণে যে ঋণের টাকা আটকে আছে আদালতে অর্থাৎ পেন্ডি মামলা হিসেবে যেটা এখনো খাতায় তোলা হয়নি অ্যামাউন্টটা, সেটা যদি আমরা যোগ করি, এই পরিমাণ গিয়ে দাঁড়াবে ১১ লাখ কোটি টাকা, যেটা মোট ঋণের ৫৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ।”

সুতরাং ব্যাংক চাইলেও সরকারকে বেশি সহায়তা দিতে পারবে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, এই বাইরে থাকছে টাকা ছাপানো বা কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নেওয়া। এই টাকা বাজারে মূল্যস্ফীতি উসকে দেয়।

এর পর রুমিন ফারহানা বৈদেশিক ঋণের হিসাব তুলে ধরেন।

অধিবেশন শেষ হওয়ার আগে আবার ফ্লোর নিয়ে স্বতন্ত্র এই সদস্য বলেন, “টিআইবি সম্প্রতি বলছে যে এই সংসদের সদস্যদের কাছে এই দেশের ব্যাংকগুলোর পাওনা হচ্ছে ১১ হাজার ৩৫৬ কোটি টাকা।”

তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে কীভাবে ঋণ পুনঃতফসিল করা হয় এবং সিআইবিতে (বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো) নাম আসার পর কীভাবে আদালতে গিয়ে তা স্থগিত রেখে নির্বাচনে অংশ নেওয়া হয়, আইনজীবী হিসেবে তা তিনি জানেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ঋণখেলাপি বিতর্কে উত্তপ্ত সংসদ

আপডেট সময় : ০৮:০৬:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

বাজেট আলোচনায় ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ এবং সংসদ সদস্যদের ঋণ পরিস্থিতি নিয়ে স্বতন্ত্র সদস্য রুমিন ফারহানার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদে বিতর্ক হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের এই সদস্যের বক্তব্যকে ‘মানহানিকর’ হিসেবে বর্ণনা করে তা জাতীয় সংসদের কার্যবিবরণীতে বাদ দেওয়ার দাবি জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও সরকারি দলের সদস্য ফজলুল হক মিলন।

অধিবেশনের সভাপতি ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্ত না দিয়ে বলেন, বক্তব্যটি পর্যালোচনা করে পরে স্পিকারের আসন থেকে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

বৃহস্পতিবার নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বতন্ত্র সদস্য রুমিন ব্যাংক খাতের মন্দ ঋণ, পুনঃতফসিল করা ঋণ এবং সংসদ সদস্যদের কাছে ব্যাংকের পাওনার প্রসঙ্গ তোলেন।

তার বক্তব্যের পর পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য ফজলুল হক মিলন আপত্তি জানান।

পরে এ বিষয়ে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির নাহিদ ইসলাম।

মন্দ ঋণ নিয়ে কী বলেছেন রুমিন?

বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদ সদস্য রুমিন বলেন, ব্যাংক খাত থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনার মধ্যেই ব্যাংকগুলো তারল্য সংকটে রয়েছে।

তিনি বলেন, “ঋণখেলাপিদের এই সংসদে দাঁড়িয়ে বলতে হচ্ছে, বাংলাদেশের মোট মন্দ ঋণের পরিমাণ ৬ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা।

“এর সঙ্গে যদি আপনি অবলোপন, পুনঃতফসিল করা ও মামলার কারণে যে ঋণের টাকা আটকে আছে আদালতে অর্থাৎ পেন্ডি মামলা হিসেবে যেটা এখনো খাতায় তোলা হয়নি অ্যামাউন্টটা, সেটা যদি আমরা যোগ করি, এই পরিমাণ গিয়ে দাঁড়াবে ১১ লাখ কোটি টাকা, যেটা মোট ঋণের ৫৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ।”

সুতরাং ব্যাংক চাইলেও সরকারকে বেশি সহায়তা দিতে পারবে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, এই বাইরে থাকছে টাকা ছাপানো বা কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নেওয়া। এই টাকা বাজারে মূল্যস্ফীতি উসকে দেয়।

এর পর রুমিন ফারহানা বৈদেশিক ঋণের হিসাব তুলে ধরেন।

অধিবেশন শেষ হওয়ার আগে আবার ফ্লোর নিয়ে স্বতন্ত্র এই সদস্য বলেন, “টিআইবি সম্প্রতি বলছে যে এই সংসদের সদস্যদের কাছে এই দেশের ব্যাংকগুলোর পাওনা হচ্ছে ১১ হাজার ৩৫৬ কোটি টাকা।”

তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে কীভাবে ঋণ পুনঃতফসিল করা হয় এবং সিআইবিতে (বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো) নাম আসার পর কীভাবে আদালতে গিয়ে তা স্থগিত রেখে নির্বাচনে অংশ নেওয়া হয়, আইনজীবী হিসেবে তা তিনি জানেন।