ঢাকা ০৮:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঘুমের মধ্যে কথা বলেন? কেন হয়, কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন

ঢাকার পত্রিকা ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৯:০২:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 1

ঘুমের মধ্যে হঠাৎ কথা বলা, বিড়বিড় করা কিংবা কারও সঙ্গে কথোপকথনের মতো শব্দ করা—অনেকের মধ্যেই দেখা যায়। বিষয়টি কখনও মজার মনে হলেও, কারও ক্ষেত্রে তা উদ্বেগের কারণ হতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে ঘুমের মধ্যে কথা বলার এই প্রবণতাকে বলা হয় ‘সোমনিলোকুই’ (Somniloquy)। এটি এক ধরনের প্যারাসমনিয়া, অর্থাৎ ঘুমের সময় অনিচ্ছাকৃত কিছু অস্বাভাবিক আচরণ বা অভিজ্ঞতা।

ঘুমের মধ্যে কথা বলার ধরন সবার এক নয়। কেউ খুব আস্তে বিড়বিড় করেন, কেউ আবার স্পষ্ট শব্দ বা বাক্য বলেন। কখনও দু-একটি শব্দেই বিষয়টি শেষ হয়, আবার কারও ক্ষেত্রে কয়েক মিনিট ধরে কথোপকথনের মতোও শোনা যেতে পারে। ঘুম থেকে ওঠার পর অনেকেরই এসব কথা মনে থাকে না।

কেন ঘুমের মধ্যে কথা বলেন?

এর পেছনে একক কোনও কারণ নেই। মানসিক চাপ, উদ্বেগ, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব এবং অনিয়মিত ঘুমের অভ্যাস এর সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তীব্র স্বপ্ন বা দুঃস্বপ্নের সময়ও কেউ কথা বলতে বা বিড়বিড় করতে পারেন।

শিশু ও কিশোরদের মধ্যে এ ধরনের ঘটনা তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায় এবং বয়স বাড়ার সঙ্গে অনেকের তা কমে যায়। কিছু ক্ষেত্রে পারিবারিক প্রবণতাও থাকতে পারে।

তবে ঘুমের মধ্যে বলা কথাকে ব্যক্তির গোপন চিন্তা, মনের কথা বা সত্যিকারের ইচ্ছার প্রকাশ হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। স্বপ্নের সঙ্গে কথার সম্পর্ক থাকলেও এর নির্দিষ্ট অর্থ রয়েছে—এমন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?

মাঝেমধ্যে ঘুমের মধ্যে কথা বলা সাধারণত গুরুতর সমস্যার লক্ষণ নয়। তবে এর সঙ্গে অন্য অস্বাভাবিক উপসর্গ থাকলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।

বিশেষ করে ঘুমের মধ্যে জোরে চিৎকার করা, হিংস্রভাবে হাত-পা ছোড়া, বিছানা থেকে উঠে পড়া, নিজেকে বা অন্যকে আঘাত করা, ঘন ঘন ঘুম ভেঙে যাওয়া কিংবা শ্বাস নিতে সমস্যা হওয়া—এ ধরনের ঘটনা ঘটলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

এ ছাড়া সকালে দীর্ঘ সময় বিভ্রান্ত থাকা, রাতে ঘুম ঠিকমতো না হওয়া বা দিনের বেলা অতিরিক্ত ঘুমঘুম ভাব থাকলেও বিষয়টি চিকিৎসককে জানানো উচিত।

ঘুমের মধ্যে কথা বলা সবসময় পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়। তবে নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম, প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো ও জাগা, ঘুমের আগে অতিরিক্ত ক্যাফেইন এড়িয়ে চলা এবং আরামদায়ক ঘুমের পরিবেশ বজায় রাখা উপকারী।

তাই মাঝেমধ্যে ঘুমের মধ্যে কথা বললে অযথা আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে আচরণটি ঘন ঘন হলে বা তার সঙ্গে শারীরিক আঘাত, শ্বাসকষ্ট কিংবা অতিরিক্ত দিনের ঘুমভাবের মতো লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ঘুমের মধ্যে কথা বলেন? কেন হয়, কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন

আপডেট সময় : ০৯:০২:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঘুমের মধ্যে হঠাৎ কথা বলা, বিড়বিড় করা কিংবা কারও সঙ্গে কথোপকথনের মতো শব্দ করা—অনেকের মধ্যেই দেখা যায়। বিষয়টি কখনও মজার মনে হলেও, কারও ক্ষেত্রে তা উদ্বেগের কারণ হতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে ঘুমের মধ্যে কথা বলার এই প্রবণতাকে বলা হয় ‘সোমনিলোকুই’ (Somniloquy)। এটি এক ধরনের প্যারাসমনিয়া, অর্থাৎ ঘুমের সময় অনিচ্ছাকৃত কিছু অস্বাভাবিক আচরণ বা অভিজ্ঞতা।

ঘুমের মধ্যে কথা বলার ধরন সবার এক নয়। কেউ খুব আস্তে বিড়বিড় করেন, কেউ আবার স্পষ্ট শব্দ বা বাক্য বলেন। কখনও দু-একটি শব্দেই বিষয়টি শেষ হয়, আবার কারও ক্ষেত্রে কয়েক মিনিট ধরে কথোপকথনের মতোও শোনা যেতে পারে। ঘুম থেকে ওঠার পর অনেকেরই এসব কথা মনে থাকে না।

কেন ঘুমের মধ্যে কথা বলেন?

এর পেছনে একক কোনও কারণ নেই। মানসিক চাপ, উদ্বেগ, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব এবং অনিয়মিত ঘুমের অভ্যাস এর সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তীব্র স্বপ্ন বা দুঃস্বপ্নের সময়ও কেউ কথা বলতে বা বিড়বিড় করতে পারেন।

শিশু ও কিশোরদের মধ্যে এ ধরনের ঘটনা তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায় এবং বয়স বাড়ার সঙ্গে অনেকের তা কমে যায়। কিছু ক্ষেত্রে পারিবারিক প্রবণতাও থাকতে পারে।

তবে ঘুমের মধ্যে বলা কথাকে ব্যক্তির গোপন চিন্তা, মনের কথা বা সত্যিকারের ইচ্ছার প্রকাশ হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। স্বপ্নের সঙ্গে কথার সম্পর্ক থাকলেও এর নির্দিষ্ট অর্থ রয়েছে—এমন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?

মাঝেমধ্যে ঘুমের মধ্যে কথা বলা সাধারণত গুরুতর সমস্যার লক্ষণ নয়। তবে এর সঙ্গে অন্য অস্বাভাবিক উপসর্গ থাকলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।

বিশেষ করে ঘুমের মধ্যে জোরে চিৎকার করা, হিংস্রভাবে হাত-পা ছোড়া, বিছানা থেকে উঠে পড়া, নিজেকে বা অন্যকে আঘাত করা, ঘন ঘন ঘুম ভেঙে যাওয়া কিংবা শ্বাস নিতে সমস্যা হওয়া—এ ধরনের ঘটনা ঘটলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

এ ছাড়া সকালে দীর্ঘ সময় বিভ্রান্ত থাকা, রাতে ঘুম ঠিকমতো না হওয়া বা দিনের বেলা অতিরিক্ত ঘুমঘুম ভাব থাকলেও বিষয়টি চিকিৎসককে জানানো উচিত।

ঘুমের মধ্যে কথা বলা সবসময় পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়। তবে নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম, প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো ও জাগা, ঘুমের আগে অতিরিক্ত ক্যাফেইন এড়িয়ে চলা এবং আরামদায়ক ঘুমের পরিবেশ বজায় রাখা উপকারী।

তাই মাঝেমধ্যে ঘুমের মধ্যে কথা বললে অযথা আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে আচরণটি ঘন ঘন হলে বা তার সঙ্গে শারীরিক আঘাত, শ্বাসকষ্ট কিংবা অতিরিক্ত দিনের ঘুমভাবের মতো লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।